ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা কর্মসূচি ২০২৬

এসএইচএস পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেল
শিক্ষক ও গবেষক, সরই উচ্চ বিদ্যালয়
এআই স্মার্ট সারসংক্ষেপ
AIএক নজরে এই নিবন্ধের মূল বিষয়বস্তু ও পয়েন্টসমূহ
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও এডিস মশার বিস্তার রোধে সরই উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
- পরীক্ষা ও পড়ালেখায় ভালো ফলাফলের জন্য ধারাবাহিক অনুশীলন ও সঠিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।
- বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনই আধুনিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
- প্রযুক্তি ও মেধার সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে বৈশ্বিক মানে গড়ে তুলতে পারে।
ভূমিকা: ডেঙ্গু বিস্তার রোধে সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকা
মৌসুমি বর্ষা ও তার পরবর্তী সময়ে পাহাড়ি ও নদীবিধৌত বান্দরবান জেলার লামা উপজেলাসহ দেশব্যাপী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক পাঠদানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ পাঠদান পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরই উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক মণ্ডলীর উদ্যোগে ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয় চত্বরে এক বিশেষ "ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা অভিযান" সফলভাবে পরিচালিত হয়।
অভিযানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সকাল ৯টায় সমাবেশ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা হয় এবং দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাসব্যাপী নিবিড় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলে।
১. অভিযানের বিস্তৃতি ও মাঠপর্যায়ের সমন্বিত কার্যক্রম
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচ্ছন্ন করতে পুরো ক্যাম্পাসকে ৪টি বিশেষ জোনে বিভক্ত করে ৪টি সমন্বিত দল গঠন করা হয়:
- জোন ক (একাডেমিক ভবন ও ছাদ): ভবনের ছাদ, সানশেড, রেইন ওয়াটার পাইপ এবং বারান্দার জমে থাকা পানি ও ময়লা অপসারণ।
- জোন খ (স্মৃতি ম্যুরাল ও ফুলের বাগান): জাতীয় বীর শহীদদের স্মরণে অঙ্কিত স্মৃতি ম্যুরাল প্রাঙ্গণ, ফুলবাগান ও গাছপালার শেকড়ে জমে থাকা ঝরা পাতা ও পলিথিন অপসারণ।
- জোন গ (ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন নর্দমা): বিদ্যালয়ের চতুর্দিকের ড্রেন ও নর্দমার আবদ্ধ পানি নিষ্কাশন এবং কীটনাশক প্রয়োগ।
- জোন ঘ (খেলার মাঠ ও সীমানা প্রাচীর): খোলা মাঠের সীমানা, ঝোপঝাড় এবং পেছনের এলাকা পরিষ্কার করে বর্জ্য ডাস্টবিনে স্থান্তর।
২. এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জীবাণুনাশক প্রয়োগ
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। তাই পরিচ্ছন্নতা দলের মূল মনোযোগ ছিল পানি জমার সম্ভাব্য প্রতিটি স্থান খুঁজে বের করা:
- ডাবের খোসা, চিপসের প্যাকেট ও প্লাস্টিক বোতল অপসারণ: শিক্ষার্থীরা চত্বরের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা সমস্ত অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঝুড়িতে ভরে নিরাপদ স্থানে নিষ্কাশন করে।
- ফুলের টবের ট্রে ও সানশেড ড্রেন ক্লিয়ারিং: বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসরুমের সামনের টবের পানি বদলে দেওয়া হয় এবং ড্রেনসমূহে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।
- ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন মিশ্রণ ছিটানো: ভেজা স্যাঁতসেঁতে এলাকা এবং ড্রেনগুলোতে জীবানু ও লার্ভা প্রতিরোধে পরিমাণমতো ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়।
৩. ডেঙ্গু সচেতনতায় ৩-৩-৩ ফর্মুলা ও স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশনা
অভিযান চলাকালীন শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে দৈনন্দিন জীবনে সহজে মনে রাখার জন্য ‘৩-৩-৩ ফর্মুলা’ শিখিয়ে দেওয়া হয়:
সরই উচ্চ বিদ্যালয় ‘৩-৩-৩ ফর্মুলা’:
- ৩ দিনে একবার: ঘরের ভেতরের বা বাইরের যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি ৩ দিনের মধ্যে ফেলে দিতে হবে।
- ৩টি উপসর্গ চেনা: হঠাৎ তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীরে লালচে র্যাশ বা অস্থিসন্ধিতে অসহ্য ব্যথা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
- ৩টি প্রাথমিক সতর্কতা: ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানানো, দিনে ফুলহাতা পোশাক পরা এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা ব্যথানাশক ঔষধ গ্রহণ না করা (কেবল প্যারাসিটামল ও প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ)।
৪. বিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রধান শিক্ষকের বার্তা
পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে এক সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন সভায় সরই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয় বলেন:
"বিদ্যালয় কেবল পুথিগত বিদ্যা অর্জনের চার দেয়াল নয়; এটি একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আজকের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রমাণ করে যে, সচেতনতা ও একতা থাকলে যেকোনো মহামারি বা রোগবালাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল বিদ্যালয়ে নয়, বরং নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও পাড়া-মহল্লাতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুক।"
অভিযান শেষে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়ি ও এলাকার অন্তত ৫টি করে পরিবারকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার সামাজিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উপসংহার: নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাসের অঙ্গীকার
একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমেই দায়িত্ব শেষ নয়; বরং পুরো বর্ষা ও শীতের প্রাক্কাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একটি নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকদের নেতৃত্বে ‘ক্যাম্পাস স্বাস্থ্য তদারকি টিম’ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা তদারকি বজায় রাখবে। সরই উচ্চ বিদ্যালয় বিশ্বাস করে—"পরিপাটি ক্যাম্পাস ও সুস্থ শরীরই মননশীল মেধার শ্রেষ্ঠ ভিত্তি।" পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হচ্ছে।